Dik Barta

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ: পাল্টাপাল্টি দাবিতে উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন

রহিম সোহাগপ্রতিবেদক
২৮ জুলাই, ২০২৬ পঠিত মিনিট পড়া
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এ ঘটনায় এনসিপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। পুলিশও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত এনসিপির নেতারা সার্কিট হাউজে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় বক্তব্য জানতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

দিনভর অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ওসমান হাদীসহ সব শহীদের হত্যার বিচার এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে যাদের কাছ থেকে সরকার অর্থ নিয়েছিল, বর্তমানে তাদের চাঁদাবাজির সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অসৎ ব্যক্তিদের বসিয়ে অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দাবি, দেশে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির রাজনীতি চলতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপির প্রতীক ‘শাপলা কলি’-তে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের এক নেতা হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ছাত্রদলের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সিলেট বিভাগীয় এক নেতা হবিগঞ্জে এসেছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে ফেরার সময় এনসিপির কর্মীরা প্রথমে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার সময় ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছিলেন এবং সংঘাত এড়াতে জুনিয়র নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, হামলার ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

দিক বার্তা / এমআরইউএস / ২৮ জুলাই ২০২৬

সংবাদটি শেয়ার করুন: