সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন কোম্পানীগঞ্জের তরুণ শাহাদাত হোসেন বিজয়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু বিনোদনের জায়গা নয়; জনসচেতনতা সৃষ্টি, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও বড় মাধ্যম। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমসাময়িক ঘটনা, সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করছেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর শাহাদাত হোসেন বিজয়।
প্রায় দুই বছর ধরে কনটেন্ট নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। এই সময়ে সমসাময়িক বিভিন্ন ঘটনা এবং সমাজের নানা অসংগতি ও মানবিক বিষয় সহজ ভাষায় দর্শকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তার তৈরি কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দর্শকের নজর কেড়েছে। দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ও উৎসাহ তাকে নিয়মিত নতুন কনটেন্ট তৈরিতে অনুপ্রাণিত করছে বলে জানান বিজয়।
শাহাদাত হোসেন বিজয়ের জন্ম ও বেড়ে ওঠা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। শৈশব ও কৈশোরের বড় একটি সময় তিনি এ এলাকার পরিবেশ ও মানুষের সঙ্গে কাটিয়েছেন। ফলে স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন, সমস্যা, সম্ভাবনা ও মানবিক সংগ্রামের বিষয়গুলো তার চিন্তাভাবনা এবং কনটেন্টে প্রভাব ফেলেছে।
তিনি ২০১৭ সালে মুজিব কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পড়াশোনা শেষ করার পর বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য কনটেন্ট নির্মাণে মনোযোগ দেন। বর্তমানে তিনি কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট জিরো পয়েন্ট এলাকায় ‘পিওর চয়েজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন
মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা বিজয়ের কনটেন্ট নির্মাণের যাত্রা খুব একটা সহজ ছিল না। ব্যক্তিগত ও পেশাগত দায়িত্ব সামলে তাকে নিয়মিত কনটেন্ট তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সমাজের জন্য ইতিবাচক কিছু করার আগ্রহ তাকে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত রেখেছে।
তার কনটেন্টের প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সমসাময়িক ঘটনা, সামাজিক সচেতনতা এবং মানবিক বিভিন্ন ইস্যু। বিনোদনের পাশাপাশি দর্শক যেন সমাজ ও মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সম্পর্কে জানতে পারেন—এমন ভাবনা থেকেই তিনি বিষয় নির্বাচন করেন। জটিল বা আলোচিত কোনো ঘটনাকে সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপন করাই তার অন্যতম লক্ষ্য।
শাহাদাত হোসেন বিজয় মনে করেন, একজন কনটেন্ট নির্মাতার কাজ শুধু দর্শককে বিনোদন দেওয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করা নয়। মানুষের চিন্তাভাবনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং সমাজের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সামনে তুলে ধরাও একজন নির্মাতার দায়িত্ব।
নিজ এলাকার মানুষের জীবন, স্থানীয় সমস্যা এবং সম্ভাবনার গল্পও ভবিষ্যতে আরও বেশি করে তুলে ধরতে চান এই তরুণ। তার মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক ইতিবাচক উদ্যোগ ও মানবিক কাজ হচ্ছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রচারের অভাবে সেগুলোর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। দায়িত্বশীল কনটেন্ট নির্মাতারা এসব উদ্যোগ সামনে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রতিযোগিতার মধ্যে তথ্যের সত্যতা এবং দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা জরুরি বলেও মনে করেন বিজয়। কোনো বিষয়ে কনটেন্ট তৈরির সময় তথ্য যাচাই, ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষা এবং দর্শকদের বিভ্রান্ত না করার বিষয়ে আরও সচেতনভাবে কাজ করতে চান তিনি।
ভবিষ্যতে কনটেন্টের বিষয় ও উপস্থাপনায় আরও বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনা রয়েছে বিজয়ের। সমসাময়িক ও মানবিক বিষয়ের পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা মানুষ, স্থানীয় উদ্যোক্তা এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের গল্পও তুলে ধরতে চান তিনি।
ডিজিটাল মাধ্যমে দায়িত্বশীল ও তথ্যনির্ভর কনটেন্ট তৈরির এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে চান কোম্পানীগঞ্জের এই উদীয়মান নির্মাতা। দর্শকদের আস্থা ধরে রেখে নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে ইতিবাচক ও সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এখন তার আগামীর লক্ষ্য।
দিক বার্তা / এমআরইউএস / ২৮ জুলাই ২০২৬
