Dik Barta

স্নিগ্ধা, পরীমনি, মাহি—ক্ষমতার বৃত্তে মুখ খোলাই কি অপরাধ?

রহিম সোহাগপ্রতিবেদক
৩১ জুলাই, ২০২৬১১ পঠিত মিনিট পড়া
স্নিগ্ধা,-পরীমনি,-মাহি
স্নিগ্ধা,-পরীমনি,-মাহি

চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, পরীমনি এবং মডেল-অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরীর অভিযোগ ঘিরে সামাজিক ও গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগের তদন্তের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত জীবনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার প্রবণতা বিচারপ্রক্রিয়া ও জনআলোচনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে।

চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সাম্প্রতিক এক ভিডিওবার্তা এবং মডেল-অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরীর দায়ের করা মামলার পর আবারও আলোচনায় এসেছে নারীদের অভিযোগ ঘিরে সামাজিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি। এর আগে পরীমনির করা অভিযোগ নিয়েও একই ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় মাহিয়া মাহি দাবি করেন, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান তাকে বিভিন্ন সময় ফোনে বিরক্ত করতেন এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থার নাম উল্লেখ করে ভয়ভীতি দেখাতেন। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে সহায়তা চাইলে অনেকের কাছ থেকেই আশানুরূপ সহযোগিতা পাননি।

মাহির এসব বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, গত রোববার রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় দায়ের করা এক মামলায় মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী অভিযোগ করেন, একটি বিজ্ঞাপনী চুক্তির কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। মামলায় তিনি আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়াকে আসামি করেন। তবে আশিয়ান গ্রুপ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।

ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন স্নিগ্ধা। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগের বিষয়বস্তুর পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য, পোশাক ও উপস্থাপনা নিয়েও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এ প্রসঙ্গে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ বিজয়ী জেসিয়া ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেন, মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তি সবসময় গুছিয়ে কথা বলতে নাও পারেন এবং মূল অভিযোগের যথাযথ তদন্ত হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে ২০২১ সালে চিত্রনায়িকা পরীমনি রাজধানীর একটি ক্লাবে তাকে নিপীড়নের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনে বিচার দাবি করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই ঘটনাকে ঘিরে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ব্যাপক জনআলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়, যা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও স্থান পেয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, জনপরিচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বা তাদের করা অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রায়ই মূল অভিযোগের পরিবর্তে অভিযোগকারীর ব্যক্তিগত জীবন, চরিত্র বা জীবনযাপনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এতে অভিযোগের প্রকৃত তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া অনেক সময় আড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞান ও গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, যৌন হয়রানি বা নির্যাতনের অভিযোগে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত জীবন নয়, বরং অভিযোগের সত্যতা যাচাই, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনগত প্রক্রিয়াকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকেও আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করার নীতির প্রতি সম্মান জানানো প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, মাহিয়া মাহি, পরীমনি ও স্নিগ্ধা চৌধুরীর আলোচিত ঘটনাগুলোর বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে কয়েকটি এখনো তদন্তাধীন বা বিচারাধীন। ফলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

দিক বার্তা / এমআরইউএস / ৩১ জুলাই ২০২৬

সংবাদটি শেয়ার করুন: