Dik Barta

বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি ইউরোপের দলগুলোর

রহিম সোহাগপ্রতিবেদক
২৯ জুলাই, ২০২৬ পঠিত মিনিট পড়া
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যায়নের এফএফইতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে সংখ্যালঘু ও নিয়ন্ত্রণহীন শেয়ার বিক্রি করে সর্বোচ্চ ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করবে ফিফা। বিনিয়োগকারীদের অংশীদারত্ব ২০ শতাংশের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে সংস্থাটির সঙ্গে উয়েফার বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছে। ইউরোপের ফুটবল ফেডারেশনগুলো এখন সম্ভাব্য বিশ্বকাপ বর্জনের বিষয়েও আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে এখনো কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ বর্জনের ঘোষণা দেয়নি।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ফিফার প্রস্তাবিত নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ বা এফএফই। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে ফিফার সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি, লাইসেন্সিং এবং টুর্নামেন্ট পরিচালনার বাণিজ্যিক কার্যক্রম একত্র করা হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যায়নের এফএফইতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে সংখ্যালঘু ও নিয়ন্ত্রণহীন শেয়ার বিক্রি করে সর্বোচ্চ ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করবে ফিফা। বিনিয়োগকারীদের অংশীদারত্ব ২০ শতাংশের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফিফার দাবি, প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে। প্রতিযোগিতার নিয়ম, আন্তর্জাতিক সূচি এবং খেলাধুলাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কোনো ভূমিকা থাকবে না। সংগৃহীত অর্থ দিয়ে আগামী চার বছরে বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্নয়নে এক হাজার কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করা সম্ভব হবে। প্রতিটি সদস্য ফেডারেশন বিশেষ প্রকল্পের জন্য এককালীন সর্বোচ্চ দুই কোটি ডলার পাওয়ার সুযোগও পেতে পারে।

কিন্তু উয়েফার আশঙ্কা, বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক অধিকার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে গেলে ফুটবলের পরিচালনায় মুনাফার চাপ বাড়বে। বিনিয়োগকারীরা স্বাভাবিকভাবেই আর্থিক ফেরত চাইবেন। এতে আরও বেশি প্রতিযোগিতা আয়োজন, ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি, টিকিটের মূল্য বাড়ানো এবং সম্প্রচারস্বত্ব থেকে সর্বোচ্চ আয় তোলার চাপ তৈরি হতে পারে।

উয়েফা বলেছে, ফুটবলের পরিচালনব্যবস্থা বেচাকেনার সম্পদ নয় এবং বিশ্বকাপ বিক্রি করার মালিকানা ফিফার একার নয়।

◉ ‘ক্রিকেটে সব রেকর্ড একদিন চুরমার করবে সূর্যবংশী’

ফিফার পরিকল্পনা কীভাবে সামনে এসেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফিফা বলছে, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের দিন সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিদের সামনে পরিকল্পনার ধারণা তুলে ধরেছিলেন সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। কিন্তু ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তারা প্রস্তাবটি সম্পর্কে আগে কিছুই জানত না এবং এর শর্ত সম্পর্কেও তাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই।

এই অস্বচ্ছতাই ইউরোপীয়দের ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে। উয়েফার ৫৫ সদস্যদেশ জরুরি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। স্কাই স্পোর্টস বলছে, ফিফা পরিকল্পনা থেকে সরে না এলে সম্ভাব্য বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকিকে চাপ তৈরির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আগ্রহ রয়েছে কয়েকটি দেশের।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও পরিকল্পনার বিরোধিতা করে বলেছেন, ফুটবল বিনিয়োগকারীদের নয়; এটি সমর্থকদের।

দিক বার্তা / এমআরইউএস / ২৯ জুলাই ২০২৬

সংবাদটি শেয়ার করুন: